মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

দর্শনীয় স্থান

উত্তরাঞ্চেলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ। যমুনা বিধৌত এ জেলার অনেক পুরাকীর্তির মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলার আটঘড়িয়ার জমিদার বাড়ির কথা এখনো এলাকাবাসীর মুখে মুখে। অথচ ফুলজোড় নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুরাকীর্তির অবস্থা এখন খুবই নাজুক। এটির সংস্কার এবং উন্মুক্তকরণ ধরে রাখতে পারে জেলার ঐতিহ্য ও পুরনো দিনের ইতিহাস-সৌন্দর্য।
জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নে এ জমিদারবাড়ির অবস্থান। মূল জমিদার উৎসব নারায়ণ চক্রবর্তী। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হন চার পুত্র। জমিদার উৎসব নারায়ণ চক্রচর্তীর চার পুত্র হলেন হিমেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী (হিম বাবু), যোগেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, ধীরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী এবং জ্ঞানেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী। বাবার মৃত্যুর পরে ছেলেরা কিছুদিন জমিদারির দেখভাল করার পরে মূল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে অনিয়ম দেখা দেয়। কিছু কিছু বিষয়ে অনিয়মের কারণে কিছু সম্পত্তি দানকরণের কথা শোনা যায়। 
জনশ্রুতি আছে, মূল জমিদার উৎসব নারায়ণ চক্রবর্তী জীবদ্দশায় তাদের কাজের মেয়ে কুলছুম বেগমকে কিছু জমি দান করেন। কিন্তু কি পরিমাণ জমি তাকে দেন, তার কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া তিনি স্থানীয় আটঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামেও ৬০ শতক জমি দান করেন। জমিদারপুত্রদের জমিদারী রক্ষণাবেক্ষণের টানাপোড়েনের সময় চলে দেশভাগ আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়ে গেলে জমিদারের চার ছেলে এবং পরিবারের সবাই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। এর পর বাড়িটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে জমিদরবাড়ির পুরোটাই বেদখল হয়ে যায়। উৎসব নারায়ণ চক্রবর্তীর জমিদারির মোট সম্পত্তির মধ্যে আটঘড়িয়াতেই ছিল এক হাজার বিঘা জমি। এছাড়া রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা এবং শেরপুরেও তাদের জমিদারির অংশ ছিল। যার সন্ধান অনেকের অজানা।
১৯৬২ সালে জমিদারবাড়িটি রেভিনিউ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, যা এসএ রেকর্ডের আওতায় ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছিলেন জমিদারপুত্র হিমেন্দ্র নারায়ণ চক্রচর্তী (হিম বাবু)। তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৭০ বছর। নিজেদের সম্পত্তির ভগ্নদশা এবং দখলদারিত্ব দেখে তিনি আবার চলে যান ভারতে।
স্থানীয়রা জানান, জমিদার বাড়ির বিশাল বড় পুকুরটিতে সান বাধানো ঘাট ছিল। সেখানে জমিদার বাড়ির লোকজনসহ এলাকার জনসাধারণ গোসল করতো। বেশ কিছুদিন আগে এই পুকুরের দখলদারিত্ব নিয়ে স্থানীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে বিবাদ দেখা দেওয়ায় এর দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল আখতার বলেন, ‘আটঘড়িয়া জমিদার বাড়িটি যদি সংস্কার বা মেরামত করা যায় তাহলে রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা জমিদার বাড়িটি দেখতে আসবে। এতে করে এলাকাটি পর্যটনের উপযুক্ত একটি স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি বর্তমান এবং ভবিষৎ প্রজন্ম এই পুরাকীর্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।’ 
ধানগড়া ইয়নিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর ওবায়দুল ইসলাম মাসুম বলেন, সরকারি হস্তক্ষেপে বাড়িটি সংস্কার করা হলে এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে উন্মুক্ত করে দিলে নতুন প্রজন্মের শিশুরা এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। 
ধানগড়ার ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ সরকার বলেন, জমিদারবাড়িটি সংস্কার করে এবং এর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনলে এটি হবে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
এলাকাবাসীরা জানান, জমিদারবাড়িটি সংস্কার করে এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনলে ফিরবে অতীত ঐতিহ্য। পাশাপাশি দর্শনীয় পুরাকীর্তি হিসেবে এটি পর্যটক এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter